Youtube Channel এর ভিউ সাবস্ক্রাইব বাড়ে না – সমাধান আছে কি..??

0
37

Youtube Channel এর ভিউ সাবস্ক্রাইব বাড়ে না – সমাধান আছে কি..??

এই বিষয়টি নিয়ে ইউটিউবের টেক চ্যানেলগুলো খুব বেশী কোথাও আলাপ করেছে বলে আমার চোখে পড়েনি। হয়তো এক লাইনে বলে যায়, কিন্তু গভীরতা নির্ণয় করেনা। তবে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার মতামত হচ্ছে কাজ করার চাইতে পর্যবেক্ষণ জরুরী। চ্যানেলে ভিউ/সাবস্ক্রাইবার বাড়ছেনা? কেন বাড়ছেনা, কি সমস্যা, ঘাটতিগুলো কোথায় সেটা বের করাটাই মুল উদ্দেশ্য থাকতে হবে।

 

 

একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। 2016 এর কথা বলছি। ইউটিউবে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ একদিন চোখে পড়লো যে কেউ একজন দায়সারা ভাবে মান্না দের একটা ক্লেইমড অডিও এলবাম আপলোড করে রেখেছে। আর তাতেই মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ। আমি ভাবলাম ক্লেইমইতো হবে। আমিও একটা আপলোড করি। কিছু ভিউ হয়তো পাবো। যেই ভাবা সেই কাজ। আপলোড করলাম ঠিকই কিন্তু ভিউ-টিউ কিছু হচ্ছেনা। সাবস্ক্রাইবারতো দুরের কথা। এবার ভাবতে লাগলাম আমি কেন ভিউ পাচ্ছিনা, সহজ উত্তর হচ্ছে যে আমার নিজেরই তো কোন সাবস্ক্রাইবার নেই, দেখবেটা কে? তাহলে সমাধান কি? ভিডিওটি ডিলেট করে দিলাম। নতুন করে বানালাম। টি-সিরিজ যেভাবে এলবাম বানায় তার মতো করে গ্রাফিক্যাল লুক দিলাম। যাতে দর্শকরা দেখে শ্রান্তি পায়। আবার চ্যানেলের নামটা এবং গ্রাফিক্সটা এমনভাবে সেট করলাম যাতে মনে হচ্ছে বিশাল বড়ো কোন প্রতিষ্ঠান বোধহয় চালু হচ্ছে। ব্যাস কেল্লাফতে। স্রোতের মতো সাবস্ক্রাইবার আর ভিউ আসতে লাগলো। মজাই পেলাম। আরো দু’চারটা বানালাম, এবার দেখি একলাফে 100K পার হয়ে গেলো। ওই সময়ে চ্যানেলে ক্লেইম থাকলেও মনিটাইজেশন পাওয়া যেতো। তাই মনিটাইজেশনও পেলাম। কপিরাইট ফ্রি কিছু গান ধারটার করে দিলাম। তাতেও ছয়-সাত মাসে পাঁচ লাখ টাকার মতো পেলাম। তবে সেই সুখ যদিও বেশিদিন সইলোনা, সওয়ার কারণও নেই। ইউটিউবের নতুন আপডেটে মনিটাইজেশন চলে গেল। চুলোয় যাক। চ্যানেলটা ওভাবেই পড়ে রইলো। কিন্তু সাবস্ক্রাইবার আসা বন্ধ হলোনা। কিছুদিন আগে ঢুকে দেখি, দেড় মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার হয়ে আছে চ্যানেলটাতে। এখনো প্রতিদিন দেড়-দুই হাজার করে সাবস্ক্রাইবার জমা হয়।

কি শিখলাম? প্রফেশনাল লুক আনাটা একটা অত্যন্ত জরুরী বিষয়। অনেকেই চ্যানেলের ছবি দিয়ে পোষ্ট করেন যে, “এতো কষ্ট করে কাজ করছি কিন্তু ভিউ-সাবস্ক্রাইবার পাচ্ছিনা। ইউটিউবিং বোধহয় ছেড়েই দিতে হবে।” আসলে সমস্যাটা অন্য জায়গায়। আপনাদের থাম্বনেইল, চ্যানেলের নাম, ব্যানার এসব দেখেই বোঝা যায় যে আনাড়ী হাতের কাজ। যার থেকে ভবিষ্যতে খুব ভালো কিছু আশা করা যায়না। এমন হলেতো স্বাভাবিকভাবেই কেউ সাবস্ক্রাইব করবেনা। থাম্বনেইলে এমন ছবি থাকে যে তাতে কখনো কখনো সাধারণ বাংলা বানানও ভুল থাকে। কালোর মধ্যে কটকটে হলুদ রংয়ের টেক্সট দিয়ে বানানো হয় থাম্বনেইল। দেখেই বোঝা যায় যে পেছনে যিনি কাজ করছেন তার অবস্থা। এমনটা হলে চলবেনা। আপনি যে কনটেন্ট নিয়ে কাজ করছেন ঠিক একই কনটেন্ট নিয়ে যারা কাজ করে, তাদের মধ্যে যারা সবচেয়ে সফল সেই চ্যানেলগুলোর গেটআপ-সেটআপ কেমন সেটা খুঁটিয়ে খুটিয়ে দেখুন। আপনার চ্যানেলের সমস্ত বিষয়ের সাথে ওই চ্যানেলগুলোর পার্থক্যগুলো কোথায় বের করুন। সেই সমস্যাগুলো সময় নিয়ে সমাধান করুন। আপনার চ্যানেলের প্রত্যেকটা বিষয়ে কালার কম্বিনেশন দেখলেই যেনো চোখ জুড়িয়ে যায়। কনটেন্ট যতই কম হোক না কেন সেটার লুকিং থাকতে হবে সবার সেরা। ভিউ-সাবস্ক্রাইবারের সাথে সফলতা আসবেই। আর যদি আপনার দ্বারা ভালো লুক আনা সম্ভব না হয়, তাহলে আপাতত ক্ষান্ত দিন। ইউটিউবং মানে ভিডিও মেকিং নয় বরং এটা একটা প্রেজেন্টেশনের কম্পিটিশন।

অন্য একটা কথা বলি। আমার দৃষ্টিতে শুরুর দিকে ইন্ট্রো শুধু অপ্রয়োজনীয়ই নয় বরং আপনার চ্যানেলের ওয়াচটাইম/ভিউ/সাবস্ক্রাইবার কমার পেছনে দায়ী। আরেকদিন দিবো তার ব্যাখ্যা।

আরো অনেক কথা আছে, কিন্তু লিখতে আর ভালো লাগছেনা। তাই সংক্ষিপ্ত করে বললাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here